এক সময় ফেরি করে বই বিক্রি করে সংসার চালাত, আজ মুক্ত চাষ করে বছরে 5 লাখ টাকা ইনকাম

আমাদের কৃষি কাজ সম্পর্কে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। যেন কৃষিকাজ করার জন্য কোনো শিক্ষার প্রয়োজন হয়না। কোনো ব্যক্তি যদি অনেক শিক্ষিত হওয়ার পরেও কৃষি কাজে নিযুক্ত হয় তবে তার প্রতি বাকি মানুষের একটা রসিকতা ভাব দেখা যায়।

তবে আমাদের এই সমস্ত ভুল ধারণা গুলি কে ভুল প্রমাণ করেছে রাজস্থানের নরেন্দ্র কুমার গারোয়া, যিনি একসময় বই বিক্রি করে জীবন যাপন করতেন এবং এখন মুক্ত চাষ করে বছরে কয়েক লক্ষ টাকা রোজগার করেন।

রাজস্থানের রেনওয়ালে বসবাসকারী নরেন্দ্র কুমার গারোয়া খুব সাধারন পরিবার থেকে এসেছেন। পরিবার চালানোর জন্য তিনি প্রথমে বই বিক্রি করতেন কিন্তু তাতে তার এমন কিছু আয় হতো না। তারপর তিনি

ভাবলেন কিছু আলাদা কাজ করবেন এজন্য তিনি ইন্টারনেটে বিভিন্ন জিনিস নিয়ে পড়াশোনা করতে থাকেন। এখান থেকেই তিনি খোঁজ পান মুক্ত চাষের। যখন তিনি আরো ভালোভাবে এর খোঁজ নেন তখন জানতে পারেন রাজস্থানের খুব কমই আছেন যারা মুক্ত চাষ করে।

এটি দেখার পর তিনি মুক্ত চাষের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং নিজের বাড়িতে চাষ করা শুরু করেন। লোকেরা তাকে পাগল বলতে শুরু করে এমনকি তার পরিবারও তাকে পাগল মনে করতে থাকেন। কিন্তু নরেন্দ্র তার সিদ্ধান্তে অনড় ছিল। তিনি অনেক পরিশ্রম করে মুক্ত চাষ শুরু করেন এবং এই মুক্ত চাষ তার জীবন বদলে দেয়। বর্তমানে রেনওয়ালের এর এক অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন নরেন্দ্র যিনি বছরে পাঁচ লাখ আয় করেন।

নরেন্দ্র তার একটি সাক্ষাৎকারে জানান যে তিনি প্রায় চার বছর আগে ঝিনুক চাষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তবে কীভাবে তিনি এটি শুরু করবেন তা তিনি জানতেন না‌। এই ধারাবাহিকতায় তারা জানতে পেরেছিল যে উড়িষ্যায় সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অফ ফ্রেশ একুয়াকালচার নামে একটি নতুন শাখা হয়েছে যেখানে ঝিনুক চাষের পদ্ধতি শেখানো হয়। প্রশিক্ষণ থেকে ফিরে এসে নরেন্দ্র অল্প পরিমাণে 30, 35 হাজার টাকা দিয়ে মুক্ত চাষ শুরু করেন।

তার কঠোর পরিশ্রম এবং উৎসর্গের ফলস্বরূপ বর্তমানে নরেন্দ্র 300 গজ কাজ করছেন। নরেন্দ্র তার এই জায়গায় ছোট ছোট পুকুর তৈরি করেছেন যার মধ্যে তিনি মুম্বাই গুজরাট এবং কেরালার জেলেদের কাছ থেকে কেনা ঝিনুক রাখেন।

ভালো কৃষি ক্ষেত্রের জন্য তিনি প্রায় 1000 ঝিনুক একসাথে রাখেন এবং দেড় বছরের মধ্যে তিনি ডিজাইনার এবং গোলাকার মুক্ত পান। নরেন্দ্র একটি ছোট জায়গায় এ কাজটি করছেন যেখান থেকে তিনি প্রায় 4-5 লক্ষ টাকা উপার্জন করেন।

এটি যদি তিনি বাড়ান তবে অবশ্যই তার রোজগারও বাড়বে কারণ বাজারে ভালো মানের মুক্ত প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত জানতে চাওয়ায় তিনি বলেছেন প্রাক্তন কৃষিমন্ত্রী প্রভু লাল সায়নী এবং রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া তার কাজের প্রশংসা করেছিলেন এবং তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে কোন ধরনের সাহায্য দরকার পড়লে সরকার তার সহায়তা করবে।

ওড়িশা সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অফ ফ্রেশ একুয়াকালচার এর পরিচালক ডঃ নরেন্দ্র খুব প্রশংসা করেছেন। ওড়িশার এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির বিশেষত্ব হল এখানে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মুক্ত চাষে আগ্রহী যে কোন ব্যক্তি উড়িষ্যার রাজধানী ভুবনেশ্বর এফ সি আই এফ এর সদর দপ্তর থেকে 15 দিনের প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। আরো বিস্তারিত জানার জন্য আপনারা সি আই এফ এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে দেখে নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।