এক হাতে বিশাল বড় বাস চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন গৃহবধূ, নেটদুনিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল ভিডিও

মেয়েদের বলা হয় দশভূজা। সংসারের কাজ সামলানো, নিজের ছেলেমেয়েদের সামলে বাইরের অফিসের কাজ, সবকিছুই তারা করেন একা হাতে। সকালবেলা উঠে সকলের জন্য হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খেটে খাবার তৈরি করে।

আবার অফিসরত মহিলারা ছোটেন অফিসের দিকে, সারাদিন ধরে খাটাখাটনি করে আবার বাড়িতে এসে সকলের জন্য খাবার বানিয়ে পরিবেশন করে সকলের জন্য পরিশ্রম করেন তারা।

ছুটির দিনে সবাই ছুটি পেলেও তাদের নেই কোনো ছুটি,নীরবে সকলকে ভালবেসে সংসারের জন্য পরিশ্রম করে চলেন তারা। বর্তমানে সব দিক থেকেই মেয়েরা রয়েছেন এগিয়ে।

খেলাধুলা নাচ-গান শারীরিক কসরত সবদিক থেকেই তারা পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিযোগিতা করে চলেছেন। এমনকি বর্তমানে ট্রেনের চালক,পাইলট প্রভৃতি কতগুলি আসন শুধুমাত্র পুরুষদের জন্য সংরক্ষিত ছিল, সেগুলো মেয়েরাও এখন অধিকার করেছেন তাল মিলিয়ে, মেয়েরা সব ক্ষেত্রে রয়েছেন এগিয়ে।

নারীর অসাধ্য কিছুই নেই। দেবী দশভুজার মতোই ঘরের কাজের সাথে বাইরের জগতও সামলায় সে। ইতিহাসের পাতা খুললেই পাওয়া যায় রানী লক্ষীবাই কে রণরঙ্গিনী রূপে, যিনি বীরত্বের সঙ্গে করেছিলেন ইংরেজদের মোকাবিলা।

ভারতবর্ষে নারীকে দেবী রূপে পূজা করা হয়, কিন্তু মানসিক দিক থেকে কতজন সচেতন এই ব্যাপারে?অতীতে নারীদের ছিলনা কোন স্বাধীনতা, লেখাপড়ার ব্যাপারেও তাদের ছিল না কোনো অধিকার।

কিন্তু এত বাধা সত্ত্বেও নারীরা হয়েছে বিজয়িনী। কলকাতার কাদম্বরী গাঙ্গুলী চন্দ্রমুখি বসু এনাদের অদম্য লড়াই শিখিয়েছে নারীকে লড়তে। সম্প্রতি ভাইরাল একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে,এক মহিলা একটি বড় স্কুল বাস চালাচ্ছেন।

সাধারণত ড্রাইভার এর ক্ষেত্রে আমরা পুরুষদেরই দেখে থাকি, কিন্তু এই বিরল দৃশ্যটি দেখে সবাই হয়ে গেছেন অবাক। সম্ভবত কোনো কারণেই মহিলাকে আজকে এই পেশা বেছে নিতে হয়েছে। মহিলাকে তার এই কর্মের জন্য প্রত্যেকে কুর্নিশ জানিয়েছেন।

মেয়েরা যে কোন অংশে কম নয় তাই মহিলা দেখিয়ে দিয়েছেন। ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে “শখ কত” নামে একটি ফেসবুকের পেজ দেখে। প্রায় হাজার হাজার মানুষ ভিডিওটি লাইক করেছেন। হাজার হাজার মানুষ কমেন্ট করেছেন ভিডিওটিতে।

প্রত্যেকেই মহিলার এই এনার্জি দেখে প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তার ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়া কাঁপিয়ে দিয়েছে। এই মহিলা আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন, মেয়েরা চাইলে সব পারে। তাইতো মেয়েদের মা দুর্গার সাথে তুলনা করা হয়।

এইসব মেয়েরা প্রত্যেকের কাছে এক অনুপ্রেরণা। প্রত্যেক মেয়েরা এদের দেখেই নিজের জীবনে এগিয়ে চলার শিক্ষা লাভ করে।এরা প্রত্যেকটি মেয়েকে জীবনে বাঁচার নিজের পথে এগিয়ে চলার জন্য উৎসাহ প্রদান করেন।

এরা আমাদের গর্ব।সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই আমরা এরকম ভিডিও দেখতে পাই। কিছুদিন আগেই ভাইরাল হয়েছিল মিলি সরকার নামে একটি মেয়ের ভিডিও, যার শারীরিক ফিটনেস আমাদের মুগ্ধ করে দিয়েছিল।

তার একটার পর একটা জিমন্যাস্টিক এর এক্সারসাইজ সকলের মন কেড়ে নিয়েছিল। এমনকি বেড়াতে গিয়ে একদম ক্যাজুয়াল পোশাকে সে ব্যাক ফ্লিপ দিয়ে মাতিয়ে দিয়েছিল সকলের মন।

বর্তমানে মহিলাদের এগিয়ে আসার জন্য তৈরি হয়েছে নানা রকম মোটিভেশনাল ক্যাম্প, এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ায় মোটিভেশনাল ইনফ্লুয়েন্সের জন্য,অনেক নারী এগিয়ে এসেছে তাদের জীবনে। মেয়েরা যেন জীবনে এভাবেই এগিয়ে চলে, এই আশাই করি আমরা।