ঘরের মধ্যে হটাৎ বেরিয়ে আসল বিরল প্রজাতির বি’ষধ’র সা’প, কাছে যেতেই ফোঁ’স করল, তুমুল ভাইরাল ভিডিও

দরজার সামনে অপেক্ষা করছেন নির্ঘাত বিপদ অর্থাৎ একটি বিশাল আকৃতির শঙ্খিনী বা ক্রেইট সাপ। সেই সাপটিকে ধরতে গিয়ে বিপদের মুখে পড়ল এক ব্যক্তি। বর্তমানে ওই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। সাপেদের মধ্যে অত্যন্ত সুন্দরী এই ক্রেইট বা শঙ্খিনী।

এমনিতেই শান্ত প্রকৃতির এই সাপ। এদের দেহ উজ্জ্বল কালো এবং হলুদ রঙের ডোরাকাটা দাগে ভর্তি। এমনিতেই এই সাপ প্রচন্ড বিষধর। বিভিন্ন এলাকায় শঙ্খিনী সাপের বিভিন্ন নাম রয়েছে। যেমন শাঁখামুটি, কালকেউটে বা শংখচুড় নামেও ডাকা হয়।

গ্রাম্য এলাকাগুলিতে শঙ্খিনী সাপকে সাধারণত মানুষ দুমুখো সাপ হিসেবেই চিনে থাকেন। যদিও এটি সম্পূর্ণভাবে ভুল ধারণা। এই সাপের কোনমতেই দুটি মাথা থাকে না। আসলে শঙ্খিনী সালের লেজের দিকটি বেশ খানিকটা চওড়া। তাই অনেকে লেজটিকে সাপের মুখ বলে ভুল করে।

যে এলাকায় শঙ্খিনী সাপ আস্তানা বাঁধে, সেখানে অন্যান্য সাপেরা খুব একটা থাকতে সাহস পায়না। কারণ, শঙ্খিনী সাপ সাধারণত বিভিন্ন ধরনের সাপ খেয়ে ফেলতে পারে। কেউটে, গোখরো, কালাচ সহ বিভিন্ন সাপকে খেয়ে ফেলতে পারে এরা। তাই এদের ভয়েই যেকোনো সাপ পালিয়ে যায়।

শঙ্খিনী বা শঙ্খচূড় সাপের বিষ খুবই তীব্র এবং মহামূল্যবান। এমনকি এই সাপের চামড়াও খুব দামী। সব মিলিয়ে শঙ্খচূড় বা শঙ্খিনী সাপের আটটি প্রজাতি রয়েছে। এদের দৈর্ঘ্য দুই মিটারের কম। এই সাপের বিস্তৃতি দেখা যায় ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায়।

এরা শান্ত ও লাজুক স্বভাবের।সাধারণত মানুষ এড়িয়ে চলে।এমনকি বিরক্ত করলে শরীর পেঁচিয়ে মাথা শরীরের নিচে লুকিয়ে রাখে। এরা ধীর গতিসম্পন্ন এবং তীব্র বিষ ধারণ করার ক্ষমতা রাখে।

সাম্প্রতিক একটি গ্রামে পাকা বাড়িতে দেখা মিললো শঙ্খিনী বা শঙ্খচূড় সাপের। বাড়িটির বন্ধ দরজার পাশে গুটিসুটি মেরে শুয়ে ছিলো সাপটি। সৌভাগ্যবশত বাড়ির লোকজন সাপটিকে মেরে ফেলেননি। শঙ্খিনী সাপটিকে ধরার জন্য এক ব্যক্তিকে ডাকা হয়।

তিনি এসে সাপটির গেল একটু লাঠির খোঁচা দিতেই নড়েচড়ে বসে সাপটি। এরপর সাপটি সেখান থেকে সরে গিয়ে বাড়ির দরজার সামনে উপস্থিত হয়। সে বাড়ির ভিতর ঢুকতে চেষ্টা করে। বাড়ির দরজা বন্ধ থাকার কারণে সাপটি প্রবেশ করতে পারেনি।

এরপর সাপ ধরতে আসা ওই ব্যক্তির নিজের হাতে থাকা একটি স্টিলের লাঠি দিয়ে সাপটিকে ধরে নেন। তিনি সাপটিকে উদ্ধার করে একটি ফাঁকা জায়গায় নিয়ে আসেন। এরপর ওই ব্যক্তি জানান, এই সাপের মধ্যে নিউরো টক্সিন ভেনম থাকে।

শিকার করার জন্য এই সাপ সাধারণত রাতের বেলায় বেরোয়। দিনের বেলায় এদের দেখা যায় না। এই সাপ সাধারণত ছোট ছোট মাছ খায়। সাধারণত ঠান্ডা জায়গায় থাকতে পছন্দ করে এরম গরম একেবারেই সহ্য করতে পারে না।

এরপর ওই ব্যক্তি একটি প্লাস্টিকের কৌটোর মধ্যে সাপটিকে বন্দী করে নেন এবং সেই স্থান থেকে চলে যান। সাপ ধরার দৃশ্যটি দেখতে বেশ কিছু লোকজন এসেছিল। তারা অনেকেই মোবাইল ক্যামেরা বের করে সাপ ধরার এই দৃশ্যটি রেকর্ড করে নেন।

“নাগ লোক” নামক একটি ইউটিউব চ্যানেল থেকে সাম্প্রতিক পোস্ট করা হয়েছে এই ভিডিওটি। সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে এই ভিডিও। ১৪ হাজার মানুষ ভিডিওটি দেখে নেওয়ার পাশাপাশি, প্রচুর সংখ্যক লাইক পড়েছে ভিডিওটিতে। কমেন্ট সেকশনে সকলেই এই ব্যক্তির সাহসিকতার প্রতি কুর্নিশ জানিয়েছেন।