ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বরিশাল-ঢাকা রুটের লঞ্চ বন্ধ, বিপাকে যাত্রীরা

ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর প্রভাবে দুর্ঘ’টনা এড়াতে সব ধরনের যাত্রীবাহি নৌযান চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলের পর বরিশাল নদী বন্দর থেকে স্থানীয় ও দূরপাল্লা রুটের যাত্রীবাহী ছোট-বড় নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এদিকে স্থানীয় ও দূরপাল্লা রুটের লঞ্চ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী।

ঢাকাগামী লঞ্চের বেশীরভাগ যাত্রী বাড়ি ফিরে গেলেও টার্মিনালে অবস্থান নিয়েছে দূরদূরান্তের অসহায় যাত্রীরা। যাত্রা বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের টিকে’টের টাকা ফেরত দিয়েছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী লঞ্চ চলাচলের সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলেছেন বরিশাল নদী বন্দর কর্মক’র্তা।

প্রতিদিন রাত ৯টা পর্যন্ত ঢাকাগামী লঞ্চগুলো ছেড়ে যাওয়ার আগে বরিশাল নদী বন্দর থাকে হাজারো যাত্রীর পদভা’রে মুখর। কিন্তু আজ ছিলো ভিন্ন চিত্র। কারণ ধেঁয়ে আসছে ভ’য়াল ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’। এর প্রভাবে যে কোন সময় প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় লন্ডভন্ড করে দিতে পারে সব কিছু।

ঘটতে পারে যাত্রীবাহী লঞ্চ দুর্ঘ’টনা। এ কারণে বিকেল থেকে সকল ধরনের যাত্রীবাহি নৌযান চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই ঘোষণার কারনে বরিশাল নদী বন্দর থেকে রাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়নি কোন যাত্রীবাহি নৌযান। বন্ধ রয়েছে স্থানীয় রুটের লঞ্চও। লকডাউনের কারণে টানা ৪৬ দিন পর যাত্রীবাহি লঞ্চ চলাচল শুরুর মাত্র একদিন পরই আবারও লঞ্চ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

যাত্রীদের অ’ভিযোগ, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় লঞ্চ বন্ধের সিদ্ধান্তটি আগে জানিয়ে দিলেই তাদের আর ভোগান্তি হতো না। বেশীরভাগ যাত্রী ফিরে গেলেও অসহায় কিছু যাত্রী অবস্থান নিয়েছেন টার্মিনালে। বরিশাল-ঢাকা রুটের এমভি পারাবত-১১ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. নজরুল ইস’লাম খান জানান, আগাম টিকেট কে’টেও যারা গন্তব্যে যেতে পারেননি তাদের টিকে’টের টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।

আবার কেউ কেউ পরদিনের জন্য কেবিন বুকিং দিয়েছে। বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তরের বার্তা অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিএ’র নির্দেশে বিকেল থেকে যাত্রীবাহি নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফের নৌযান চলাচল শুরু হবে। বন্দরে অবস্থান নেয়া যাত্রীদের সুরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন তিনি। লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকলেও বরিশালের বিভিন্ন খেয়াঘাটে খেয়া পাড়াপাড় অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন নদ-নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়েছে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।