পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য আসলো দুঃসংবাদ!

২৪ মে প্রকাশিত দৈনিক সংবাদের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা এবার বৃত্তি পাচ্ছে না। কারণ এবার তাদের সমাপনী পরীক্ষা হয়নি। কেন হয়নি, না হওয়ার কারণ কী সবাই তা জানেন। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস তথা কভিড-১৯ এর সংক্রমণের ভয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনা সম্ভব হয়নি।

সারা বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়েছে। অনলাইনে যেটুকু যা পড়ান গেছে এবং আগের ক্লাসগুলোর ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই সবাইকে ওপরের শ্রেণীতে উত্তীর্ণ করে দেয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৮ মে) সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ তথ্য জানা যায়।

নিবন্ধে আরও জানা যায়, যারা ভালো লেখাপড়া করে, যারা মেধাবী তারা বৃত্তি পাওয়ার সম্মান থেকে বঞ্চিত হবে কেন? সমাপনী পরীক্ষা দিয়ে হোক আর না

দিয়ে হোক তারা তো পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ হয়েছে। এমনিতে তারা দীর্ঘসময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে থেকে সহপাঠীদের থেকে দূরে থেকে মনের সেই স্বতঃস্ফূর্ততা হারাচ্ছে বলে অনেকে ধারণা

করছেন সেখানে এই বৃত্তির ব্যাপারটা একটু হলেও তাদের খুশি করতে পারে। অভিভাবকরাও একটু স্বস্তি পেতে পারে। তারা সবাই তো আর সচ্ছল জীবনযাপন করছে না। তাছাড়া বৃত্তি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এ কথা তো বলাই যায়। কজেই বৃত্তি তাদের দিতে হবে। কিন্তু সেটা কীভাবে?

বাজেটের টাকা অর্থবছরের মধ্যে ব্যয় না হলে ফেরত দিতে হবে এটাই স্বাভাবিক শুধু না বাধ্যতামূলকও বটে। ফেরত না দিলে এমনিতেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। এঅবস্থায় মহামারী হোক আর যে কারণেই হোক শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা ফেরত যাবে এটা মেনে নেয়া যাচ্ছে না। চাইলে এর একটা বিহিত হতেই পারে।

এটা অসম্ভব কিছু না। এক্ষেত্রে বাজেটে এ খাতে বরাদ্দকৃত টাকাটা নির্বাহী আদেশে ক্যাস করা যায়। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকাটা তুলে মহাপরিচালকের পদবিতে একটা নতুন একাউন্ট কোন বাণিজ্যিক ব্যাংকে খুলে সেখানে জমা রাখতে হবে। কত টাকা বৃত্তির খাতে লাগত এ বছর তার হিসাবও কর্তৃপক্ষের কাছে করা রয়েছে বলে পত্রিকায় দেখা গেল।

প্রাথমিকের বেলায় যে কাজটা করা যেতে পারে তাহলো টাকাটা তুলে মাধ্যমিকের ডিজির একাউন্টে ওই ভাবে দিয়ে দিতে হবে। মাধ্যমিকের ডিজি কোন উচ্চবিদ্যালয়ে কতজন শিক্ষার্থী ষষ্ট শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছে সে হিসাব ফিল্ড থেকে সংগ্রহ করতে পারেন সহজেই। ওই সংখ্যার শতকরা কতজনকে বৃত্তি দেয়া যেতে পারে টাকার সঙ্গে সংগতি রেখে তার একটা হিসাব করে টাকাটা স্কুলে স্কুলে পাঠিয়ে দিতে পারেন।

শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে শিক্ষক মহোদয়রা ঠিক করবেন কোন শিক্ষার্থী কোন গ্রেডে বৃত্তি পেতে পারে। যোজন যোজন দূর থেকে ঠিক করে দেয়ার দরকার করবে না কে কে বৃত্তি পাবে। লেখাপড়া যে ভালো করবে সেই বৃত্তি পাবে। মূল্যায়ন সেভাবেই হবে। শিক্ষকের প্রতি আস্থা রাখতে হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা রাখতে হবে। নয়-ছয় ভেবে পিছিয়ে থাকা যাবে না।

প্রাথমিকের বৃত্তি প্রদান নিয়ে প্রসঙ্গক্রমে আরও কিছু কথা এখানে বলা যেতে পারে। সেবার প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত হতে হতে হলো না। বলা হলো এর জন্য প্রাইমারি স্কুলের অবকাঠামো ঠিক করতে হবে অর্থাৎ শ্রেণীকক্ষ সেভাবে বাড়াতে হবে। পদ সৃষ্টি করতে হবে।

শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। তাদের ট্রেনিং দিতে হবে। কারিকুলাম ঠিক করতে হবে এ রকম আরও কত কি। আরও বলা হলো এগুলো ঠিক করে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা চালু না হওয়া পর্যন্ত পঞ্চম শ্রেণীতে পাবলিক পরীক্ষা চলবে। পঞ্চম শ্রেণীতে পাবলিক পরীক্ষা ধরে রাখার পক্ষে যুক্তি দেখনো হলো

Ñএতে মেধাবীদের বৃত্তি প্রদান করা সহজ হচ্ছে। বৃত্তি প্রদানের জন্য আলাদা পরীক্ষা নিতে গেলে শ্রেণীর সব শিশু লেখাপড়ায় সমান সুযোগ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। শিক্ষক মহোদয়রা তখন বৃত্তি পরীক্ষার জন্য লেখাপড়ায় ভালো এমন সব ছাত্রছাত্রীদের বাছাই করে নিয়ে পৃথকভাবে বিশেষ যত্ন সহকারে পড়ান। এতে করে ক্লাসের অন্যরা বঞ্চিত হয়। কথা দুটোই ঠিক আছে। তাহলে কি যেমন আছে তেমনই চলবে।

ছোট ছোট সোনামণিরা নোট-গাইড আর কোচিংএর জাঁতাকলে পড়ে পিষ্ঠ হতে থাকবে যেমন হচ্ছে যার শুরু এই প্রাইমারির সমাপনী পরীক্ষা থেকে। দেশব্যাপী মহাযজ্ঞ চলে পঞ্চম শ্রেণী পাশের একখানা সনদ হাতে পাওয়ার জন্য যে সনদের বাস্তবে কোন মূল্য নেই। আছে দুর্নীতির বিস্তার। এর শুরু থেকে এ পর্যন্ত কোন বরেণ্য শিক্ষাবিদকে বলতে শুনিনি এ পরীক্ষাটার পক্ষে কোন কথা। বরং বলতে শুনেছি ১২ ক্লাস লেখাপড়া করতে আমাদের শিশুদের চার বার পাবলিক পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে এটা ‘টু মাচ’। এনিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে, মানববন্ধন হয়েছে কোন কাজ হয়নি বরং পরীক্ষাটা আমাদের শিশুদের ঘাড়ে ক্রমেই জেকে বসেছে, যার পিছনে রয়েছে শিশুদের লেখাপড়া নিয়ে রমরমা বাণিজ্য।

এবার পরীক্ষাটা হয়নি আমরা চাই আর কোনদিন না হোক। আমরা চাই প্রাথমিক শিক্ষা হোক অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বাধ্যতামূলক এবং সেখানেই অনুষ্ঠিত হোক প্রথম পাবলিক পরীক্ষা। যে পরীক্ষার আগে-পরে ঝরে যাওয়া বিরাট সংখ্যক শিক্ষার্থীর কিছু হলেও ওই লেখাপড়া মনে থাকবে কাজে লাগবে। সমাজে সে একজন লেখাপড়া মানুষ হিসেবে বিিেচত হবে। এবং সরকারের সর্বনিম্ন পদে চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবে (এখন পর্যন্ত যেটা আছে)। এ কারণেই বলা পিইসির ওই সনদ ওদের জন্য অর্থাৎ পঞ্চম শ্রেণীর আগে-পরে যারা ঝরে যাচ্ছে তাদের কোন কাজেই আসছে না।

অব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতার অভাব, অযোগ্যতা এসব নিয়ে প্রচুর কথা রয়েছে। নতুন কোন কথা না। খুব সম্ভব ২০১৮ সালের প্রাথমিকের সমাপনী পরীক্ষায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেনি। কেন বসতে পারল না তা নিয়ে এ পর্যন্ত কোন কথা শোনা যায়নি। অথচ এদের বিনামূল্যে সবাইকে পাঠ্যবই দেয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ অবৈতনিক অবকাঠামোর মধ্যে রেখে তাদের পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত আনতে হয়েছে। অবশ্য তারা যদি পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত আসার আগেই ঝরে পড়ে থাকে বা শুধু কাগজে-কলমে থেকে থাকে সে কথা আলাদা। পরীক্ষায় না বসা এই দেড় লাখ শিক্ষার্থীর জন্য বিশাল অঙ্কের টাকা ব্যয় করতে হয়েছে সরকারকে।

উপবৃত্তির টাকাও তাদের মধ্যে সবাই না হলেও অনেকে পেয়েছে। এ কথা তো ঠিক, গরিব অভিভাবকদের সন্তানরাই তো উপবৃত্তির টাকা পায়। আবার ঝরে পড়েও তারাই। দেখা যায় বিষয়টা বেমালুম গায়েব হয়ে গেল। কেউ একটু উচ্চবাচ্যও করল না। আবার ২০১৯ এর ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্বব্যাংক এক প্রতিবেদনে বলেছিল, মানের দিক দিয়ে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা চার বছর পিছিয়ে আছে। এর মানে আমাদের শিশুরা প্রথম শ্রেণীতে যা শেখার কথা তা শিখছে পঞ্চম শ্রেণীতে গিয়ে। ১১ বছরের স্কুলজীবনে ৪ বছরই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার মানের এ অবনতি উদ্ধারে কতটুকু কি হয়েছে না হয়েছে সেটা কর্তৃপক্ষ ভালো জানবেন। কাজেই অব্যবস্থাপনা জবাবদিহিতার অভাব অযোগ্যতা এসব কথাগুলো আমার না বিশ্বব্যাংকের।

বৃত্তির টাকা ওদের পেতে হবে। ফেরত দেয়া যাবে না। কীভাবে কী করবেন সেটা কর্তৃপক্ষকে ঠিক করতে হবে। রাস্তা তাদেরই বের করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চিরদিন বন্ধ থাকবে না। মানুষ বসে নেই। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা অতিমারীর প্রতিষেধক দেশে দেশে উৎপাদন শুরু হয়ে গেছে। হতেই হবে। মানবজাতি ভাইরাসের কাছে পরাস্ত হতে পারে না।
২৪ মে প্রকাশিত দৈনিক সংবাদের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা এবার বৃত্তি পাচ্ছে না। কারণ এবার তাদের সমাপনী পরীক্ষা হয়নি। কেন হয়নি, না হওয়ার কারণ কী সবাই তা জানেন। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস তথা কভিড-১৯ এর সংক্রমণের ভয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনা সম্ভব হয়নি।

সারা বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়েছে। অনলাইনে যেটুকু যা পড়ান গেছে এবং আগের ক্লাসগুলোর ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই সবাইকে ওপরের শ্রেণীতে উত্তীর্ণ করে দেয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৮ মে) সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ তথ্য জানা যায়।

নিবন্ধে আরও জানা যায়, যারা ভালো লেখাপড়া করে, যারা মেধাবী তারা বৃত্তি পাওয়ার সম্মান থেকে বঞ্চিত হবে কেন? সমাপনী পরীক্ষা দিয়ে হোক আর না দিয়ে হোক তারা তো পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ হয়েছে। এমনিতে তারা দীর্ঘসময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে থেকে সহপাঠীদের থেকে দূরে থেকে মনের সেই স্বতঃস্ফূর্ততা হারাচ্ছে বলে অনেকে ধারণা

করছেন সেখানে এই বৃত্তির ব্যাপারটা একটু হলেও তাদের খুশি করতে পারে। অভিভাবকরাও একটু স্বস্তি পেতে পারে। তারা সবাই তো আর সচ্ছল জীবনযাপন করছে না। তাছাড়া বৃত্তি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এ কথা তো বলাই যায়। কজেই বৃত্তি তাদের দিতে হবে। কিন্তু সেটা কীভাবে?

বাজেটের টাকা অর্থবছরের মধ্যে ব্যয় না হলে ফেরত দিতে হবে এটাই স্বাভাবিক শুধু না বাধ্যতামূলকও বটে। ফেরত না দিলে এমনিতেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। এঅবস্থায় মহামারী হোক আর যে কারণেই হোক শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা ফেরত যাবে এটা মেনে নেয়া যাচ্ছে না। চাইলে এর একটা বিহিত হতেই পারে।

এটা অসম্ভব কিছু না। এক্ষেত্রে বাজেটে এ খাতে বরাদ্দকৃত টাকাটা নির্বাহী আদেশে ক্যাস করা যায়। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকাটা তুলে মহাপরিচালকের পদবিতে একটা নতুন একাউন্ট কোন বাণিজ্যিক ব্যাংকে খুলে সেখানে জমা রাখতে হবে। কত টাকা বৃত্তির খাতে লাগত এ বছর তার হিসাবও কর্তৃপক্ষের কাছে করা রয়েছে বলে পত্রিকায় দেখা গেল।

প্রাথমিকের বেলায় যে কাজটা করা যেতে পারে তাহলো টাকাটা তুলে মাধ্যমিকের ডিজির একাউন্টে ওই ভাবে দিয়ে দিতে হবে। মাধ্যমিকের ডিজি কোন উচ্চবিদ্যালয়ে কতজন শিক্ষার্থী ষষ্ট শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছে সে হিসাব ফিল্ড থেকে সংগ্রহ করতে পারেন সহজেই। ওই সংখ্যার শতকরা কতজনকে বৃত্তি দেয়া যেতে পারে টাকার সঙ্গে সংগতি রেখে তার একটা হিসাব করে টাকাটা স্কুলে স্কুলে পাঠিয়ে দিতে পারেন।

শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে শিক্ষক মহোদয়রা ঠিক করবেন কোন শিক্ষার্থী কোন গ্রেডে বৃত্তি পেতে পারে। যোজন যোজন দূর থেকে ঠিক করে দেয়ার দরকার করবে না কে কে বৃত্তি পাবে। লেখাপড়া যে ভালো করবে সেই বৃত্তি পাবে। মূল্যায়ন সেভাবেই হবে। শিক্ষকের প্রতি আস্থা রাখতে হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা রাখতে হবে। নয়-ছয় ভেবে পিছিয়ে থাকা যাবে না।

প্রাথমিকের বৃত্তি প্রদান নিয়ে প্রসঙ্গক্রমে আরও কিছু কথা এখানে বলা যেতে পারে। সেবার প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত হতে হতে হলো না। বলা হলো এর জন্য প্রাইমারি স্কুলের অবকাঠামো ঠিক করতে হবে অর্থাৎ শ্রেণীকক্ষ সেভাবে বাড়াতে হবে। পদ সৃষ্টি করতে হবে।

শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। তাদের ট্রেনিং দিতে হবে। কারিকুলাম ঠিক করতে হবে এ রকম আরও কত কি। আরও বলা হলো এগুলো ঠিক করে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা চালু না হওয়া পর্যন্ত পঞ্চম শ্রেণীতে পাবলিক পরীক্ষা চলবে। পঞ্চম শ্রেণীতে পাবলিক পরীক্ষা ধরে রাখার পক্ষে যুক্তি দেখনো হলো

Ñএতে মেধাবীদের বৃত্তি প্রদান করা সহজ হচ্ছে। বৃত্তি প্রদানের জন্য আলাদা পরীক্ষা নিতে গেলে শ্রেণীর সব শিশু লেখাপড়ায় সমান সুযোগ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। শিক্ষক মহোদয়রা তখন বৃত্তি পরীক্ষার জন্য লেখাপড়ায় ভালো এমন সব ছাত্রছাত্রীদের বাছাই করে নিয়ে পৃথকভাবে বিশেষ যত্ন সহকারে পড়ান। এতে করে ক্লাসের অন্যরা বঞ্চিত হয়। কথা দুটোই ঠিক আছে। তাহলে কি যেমন আছে তেমনই চলবে।

ছোট ছোট সোনামণিরা নোট-গাইড আর কোচিংএর জাঁতাকলে পড়ে পিষ্ঠ হতে থাকবে যেমন হচ্ছে যার শুরু এই প্রাইমারির সমাপনী পরীক্ষা থেকে। দেশব্যাপী মহাযজ্ঞ চলে পঞ্চম শ্রেণী পাশের একখানা সনদ হাতে পাওয়ার জন্য যে সনদের বাস্তবে কোন মূল্য নেই। আছে দুর্নীতির বিস্তার। এর শুরু থেকে এ পর্যন্ত কোন বরেণ্য শিক্ষাবিদকে বলতে শুনিনি এ পরীক্ষাটার পক্ষে কোন কথা। বরং বলতে শুনেছি ১২ ক্লাস লেখাপড়া করতে আমাদের শিশুদের চার বার পাবলিক পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে এটা ‘টু মাচ’। এনিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে, মানববন্ধন হয়েছে কোন কাজ হয়নি বরং পরীক্ষাটা আমাদের শিশুদের ঘাড়ে ক্রমেই জেকে বসেছে, যার পিছনে রয়েছে শিশুদের লেখাপড়া নিয়ে রমরমা বাণিজ্য।

এবার পরীক্ষাটা হয়নি আমরা চাই আর কোনদিন না হোক। আমরা চাই প্রাথমিক শিক্ষা হোক অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বাধ্যতামূলক এবং সেখানেই অনুষ্ঠিত হোক প্রথম পাবলিক পরীক্ষা। যে পরীক্ষার আগে-পরে ঝরে যাওয়া বিরাট সংখ্যক শিক্ষার্থীর কিছু হলেও ওই লেখাপড়া মনে থাকবে কাজে লাগবে। সমাজে সে একজন লেখাপড়া মানুষ হিসেবে বিিেচত হবে। এবং সরকারের সর্বনিম্ন পদে চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবে (এখন পর্যন্ত যেটা আছে)। এ কারণেই বলা পিইসির ওই সনদ ওদের জন্য অর্থাৎ পঞ্চম শ্রেণীর আগে-পরে যারা ঝরে যাচ্ছে তাদের কোন কাজেই আসছে না।

অব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতার অভাব, অযোগ্যতা এসব নিয়ে প্রচুর কথা রয়েছে। নতুন কোন কথা না। খুব সম্ভব ২০১৮ সালের প্রাথমিকের সমাপনী পরীক্ষায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেনি। কেন বসতে পারল না তা নিয়ে এ পর্যন্ত কোন কথা শোনা যায়নি। অথচ এদের বিনামূল্যে সবাইকে পাঠ্যবই দেয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ অবৈতনিক অবকাঠামোর মধ্যে রেখে তাদের পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত আনতে হয়েছে। অবশ্য তারা যদি পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত আসার আগেই ঝরে পড়ে থাকে বা শুধু কাগজে-কলমে থেকে থাকে সে কথা আলাদা। পরীক্ষায় না বসা এই দেড় লাখ শিক্ষার্থীর জন্য বিশাল অঙ্কের টাকা ব্যয় করতে হয়েছে সরকারকে।

উপবৃত্তির টাকাও তাদের মধ্যে সবাই না হলেও অনেকে পেয়েছে। এ কথা তো ঠিক, গরিব অভিভাবকদের সন্তানরাই তো উপবৃত্তির টাকা পায়। আবার ঝরে পড়েও তারাই। দেখা যায় বিষয়টা বেমালুম গায়েব হয়ে গেল। কেউ একটু উচ্চবাচ্যও করল না। আবার ২০১৯ এর ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্বব্যাংক এক প্রতিবেদনে বলেছিল, মানের দিক দিয়ে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা চার বছর পিছিয়ে আছে। এর মানে আমাদের শিশুরা প্রথম শ্রেণীতে যা শেখার কথা তা শিখছে পঞ্চম শ্রেণীতে গিয়ে। ১১ বছরের স্কুলজীবনে ৪ বছরই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার মানের এ অবনতি উদ্ধারে কতটুকু কি হয়েছে না হয়েছে সেটা কর্তৃপক্ষ ভালো জানবেন। কাজেই অব্যবস্থাপনা জবাবদিহিতার অভাব অযোগ্যতা এসব কথাগুলো আমার না বিশ্বব্যাংকের।

বৃত্তির টাকা ওদের পেতে হবে। ফেরত দেয়া যাবে না। কীভাবে কী করবেন সেটা কর্তৃপক্ষকে ঠিক করতে হবে। রাস্তা তাদেরই বের করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চিরদিন বন্ধ থাকবে না। মানুষ বসে নেই। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা অতিমারীর প্রতিষেধক দেশে দেশে উৎপাদন শুরু হয়ে গেছে। হতেই হবে। মানবজাতি ভাইরাসের কাছে পরাস্ত হতে পারে না।