ভাগ্নের প্রে’মিকাকে শয্যাসঙ্গী করতে বাধ্য হয় মামা!

রাজধানীর কলাবাগানে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের এক ছা’ত্রীর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছিলো, সে ঘটনার পর থেকেই দেশে সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসি বা বি’কৃত যৌ’নাচারের ভ’য়াবহ দিকটি উঠে আসে। সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসির ভ’য়াবহতা দেশে আড়ালে আবডালে কতোটা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তা আঁচ করা যায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া আরও একটি ঘটনার বিস্তারিত জানলে।

যে ঘটনার সূত্রপাত প্রে’ম দিয়ে। ওই প্রে’মের প্রে’মিক ফাহাদ হোসেন সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসিতে আসক্ত। যে তার প্রে’মিকাকে ব্লাকমেইলিং করে মামা’র সয্যাসঙ্গী হতে বাধ্য করে। গো’পনে ধারণ করা অ’বৈধ স’ম্পর্কের ভিডিও তার এই নোংরামির হাতিয়ার।

সুদূর কানাডায় অধ্যয়নরত এই ভাগ্নে তার মামা’র সঙ্গে নিজ প্রে’মিকার শারীরিক স’ম্পর্কের লাইভ ভিডিও দেখে সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসিতে মেতে উঠতো। ভাগ্নের চাপাচাপিতে মামা’ও এই অস্বাভাবিক স’ম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এছাড়াও ভাগ্নে ফাহাদের তুলনায় বয়স কম হওয়ায় ছোটবেলায় ভাগ্নের দ্বারাই মলেস্টিংয়ের শিকার হয়েছিলেন মামা সিফাত।

কেবল তা’ই নয় কানাডায় থাকা ওই প্রে’মিক দেশে অবস্থানরত তার চাচাতো ভাই এবং বন্ধুর সঙ্গে অ’বৈধ স’ম্পর্কে লিপ্ত হয়ে লাইভ ভিডিও করতে প্রে’মিকাকে চাপাচাপি করে যাচ্ছিলো। যে কারণে বাধ্য হয়ে রাজধানীর পল্লবী থা’নায় মা’মলা দায়ের করেন সেই প্রে’মিকা। এপরই অ’ভিযান চালিয়ে ওই প্রে’মিকের মামা সিফাতকে গ্রে’প্তার করে গোয়েন্দা পু’লিশ (ডিবি)।

ঘটনার বিস্তারিত জানাতে গিয়ে ওই প্রে’মিকা গোয়েন্দা পু’লিশকে (ডিবি) বলেন, ‘আমা’র বয়স তখন ১৩ বছর। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আমা’র জেএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছিল। বাবা-মায়ের সঙ্গে নতুন বাসায় উঠেছি।

যখন ছোট ছিলাম তখন বাবা-মা আমা’র বিয়ের জন্য একটি ছে’লে ঠিক করে রেখেছিলেন। এতো অল্প বয়সে সিদ্ধান্ত নেই আমি ওই ছে’লেকে বিয়ে করবো না। কিন্তু বাবা-মা তাদের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। বাবা-মা কর্মস্থলে চলে গেলে পল্লবী থা’না এলাকার ভাড়া বাসায় আমি নিঃসঙ্গ হয়ে যেতাম। তাই গল্প করার জন্য পাশের ফ্ল্যাটে যেতাম। ওই ফ্ল্যাটে একজন আপু থাকতেন। ওনার দূরস’ম্পর্কের খালাত ভাই ফাহাদ তাদের বাসায় আসা-যাওয়া করতো।

আমাকে দেখে ফাহাদের ভালো লেগে যায়। আপুর মাধ্যমে আমাকে প্রে’মের প্রস্তাব করে। আমি রাজি হইনি। ফাহাদ হাল ছাড়েনি। আপুর মাধ্যমে আমাকে বারবার প্রস্তাব করে যাচ্ছিলো। আপু আমাকে রাজি করানোর জন্য তাদের বাসায় গেলেই কানের কাছে ঘ্যান ঘ্যান করতেন। ফাহাদের নানা প্রশংসা করে বলতেন একবার যেনো ফাহাদের সঙ্গে কথা বলে দেখি। যদি ভালো লাগে পরে না হয় স’ম্পর্কে জড়াবো।

একসময় আমা’র আর ফাহাদের মধ্যে স’ম্পর্ক গড়ে উঠে। কিছুদিন পর ফাহাদ তার মামা’র বাসায় আমাকে বেড়াতে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে আমা’র সঙ্গে শারীরিক স’ম্পর্ক করে। ওইদিনই সে গো’পনে আমাদের শারীরিক স’ম্পর্কের ভিডিও ও ছবি তুলে রাখে। ২০১৮ সালে ফাহাদ স্টুডেন্ট ভিসায় কানাডা চলে যায়। কানাডা যাবার সময় আমি আমা’র পরিবারকে বলেছিলাম একটা ভালো ছে’লে আছে। আমা’র পরিবার রাজি হয়। কিন্তু ফাহাদ কানাডা চলে যাওয়ায় তখন বিয়ে করা সম্ভব হয়নি।

তার সঙ্গে কথা ছিল ২ বছর পরে দেশে এসে আমাকে বিয়ে করবে। কিন্তু সে কানাডা যাওয়ার পরপরই আমা’র ইনবক্সে কিছু ভিডিও ও ছবি পাঠায়। আমি চ’মকে উঠি। আমাকে বলে আমা’র ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের পাসওয়ার্ড দেয়ার জন্য। আমি দিতে চাইনি।

একপর্যায়ে আমাকে হু’মকি দেয়। ছবি ও ভিডিও ফেসবুক ও প’র্নোগ্রাফি সাইটে দিয়ে দেবে। এমনকি আমা’র ঘনিষ্ঠজনের কাছে পাঠাবে। তখন আমা’র ছবি ও নাম ব্যবহার করে ফাহাদ ভু’য়া ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের আইডি খুলে। এসব আইডি থেকে আমা’র পরিচিতদের রিকুয়েস্ট পাঠায়। তার উদ্দেশ্য ছিল ভিডিও ও ছবি তাদের কাছে পাঠানো। পরে আমি বাধ্য হয়ে তাকে পাসওয়ার্ড দেই।

ওই পাসওয়ার্ড নিয়ে সে আমাকে বলে আমি তোমা’র ফিউচার হাজবেন্ড। দেশে এসে তোমাকে বিয়ে করবো। কিন্তু তার আগে আমা’র কিছু ফ্যান্টাসি আছে সেগুলো তোমাকে পূরণ করতে হবে। ফ্যান্টাসি কি জানতে চাইলে সে বলে, আমা’র মামা সিফাতের সঙ্গে

শারীরিক স’ম্পর্ক করতে হবে আর আমি সেটা ভিডিও কলে দেখে মজা নেবো। আমি তার এই কথা মেনে নিতে পারিনি। আমা’র অ’পারগতার কথা শুনে ফের ভিডিও ও ছবির হু’মকি দেয়। আমি তাকে অনুরোধ করি যাতে ভাই’রাল না করে। সে যা বলবে- আমি তাই শুনবো। একপর্যায়ে আমি সিফাতের বাসায় যাই। শারীরিক স’ম্পর্ক করার সময়

ফাহাদ কানাডা থেকে ভিডিও কলে সেই দৃশ্য দেখে স্কিন রেকর্ডার দিয়ে রেকর্ড করে রাখে। পরে সেগুলো আবার আমা’র কাছে পাঠায়। সিফাতের সঙ্গে শারীরিক স’ম্পর্ক করে রেহাই মিলেনি আমা’র। তারপর ফাহাদ তার চাচাত ভাই

ও আরো এক বন্ধুর বাসায় যাবার কথা বলে। এতে আমা’র রাগ বেড়ে যায়। তার মানসিক নি’র্যাতন আর এরকম উদ্ভট আবদার আমি আর মেনে নিতে পারছিলাম না। পরে তাকে জানিয়ে দেই তার যা মনে হয় তা করার জন্য। একসময় তার কাছে থাকা আমা’র ভিডিও ও ছবি বিভিন্ন প’র্নোগ্রাফি সাইটে আপলোড করে দেয়। আমা’র বন্ধু ও বান্ধবীরা সেটি দেখে আমাকে বলে কি রে তোর ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন লিংকে দেখা যাচ্ছে। উপায়ন্তর না পেয়ে বিষয়টি আমা’র পরিবারকে জানিয়ে মা’মলার সিদ্ধান্ত নেই। পরিবারকে সব কথা খুলে বলি।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী কি’শোরী বাদী হয়ে গত ৮ই মা’র্চ রাজধানীর পল্লবী থা’নায় নারী ও শি’শু নি’র্যাতন দমন আইন এবং প’র্নোগ্রাফি আইনে তার প্রে’মিক ফাহাদ হোসেন ও তার মামা সিফাতের বি’রুদ্ধে পৃথক ২টি মা’মলা দায়ের করেন।

সেই মা’মলার প্রেক্ষিতে গত সোমবার (১৫ মা’র্চ) বিকালে মহানগর গোয়েন্দা পু’লিশের সাইবার স্পেশাল ক্রা’ইম বিভাগের ওয়েব বেইজড ক্রা’ইম ইনভেস্টিগেশন টিম অ’ভিযু’ক্ত সিফাতকে গ্রে’প্তার করে। সিফাত ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভা’র্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) হোটেল ম্যানেজম্যান্ট ও ট্যুরিজমের বিভাগের শিক্ষার্থী। মা’মলার প্রধান আ’সামি প্রে’মিক ফাহাদ হোসেন কানাডা থাকায় তাকে এখনই গ্রে’প্তার করা সম্ভব হয়নি। ফাহাদ ও সিফাত স’ম্পর্কে মামা-ভাগ্নে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা সংস্থার অ’তিরিক্ত কমিশনার কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, কি’শোরী মে’য়েটিকে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিকভাবে নি’র্যাতন করে সাইবার ব্ল্যাকমেইলিং করা হয়েছে। প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। উঠতি বয়সী মে

‘য়েরাই বেশি শিকার হচ্ছে। কেউ জেনেশুনে আবার কেউ অসাবধানতাবশে। তাই স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মে’য়েদের সতর্ক হতে হবে। একান্ত ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদানে সাবধান হতে হবে। যদি মনে হয় ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে যাবেন তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী কি’শোরীর সঙ্গে এমন ঘটনার প্রেক্ষিতে ২টি মা’মলা হয়েছে। ১ জনকে গ্রে’প্তার করা হয়েছে। মা’মলার ওপর আ’সামি কানাডায় আছে। তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় আনার চেষ্টা করা হবে।

ডিবি’র ওয়েব বেইজড ক্রা’ইম ইনভেস্টিগেশন টিমের অ’তিরিক্ত উপ-পু’লিশ কমিশনার (এডিসি) আশরাফ উল্লাহ আরটিভি নিউজকে বলেন, সিফাতকে প্রাথমিকভাবে আম’রা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। সে জানিয়েছে, ফাহাদের কথা রাখতেই ওই কি’শোরীর সঙ্গে শারীরিক স’ম্পর্ক করেছে। ফাহাদের কাছে ছোটবেলায় সিফাত নিজেও মলেস্টিংয়ের শিকার হয়েছিল। আম’রা সিফাতের মোবাইল থেকে অনেক তরুণীর নুড ভিডিও ও ছবি পেয়েছি। অন্তত ৬ জন তরুণীর সঙ্গে শারীরিক স’ম্পর্ক করে

ভিডিও ধারণ করেছে। তিনি বলেন, বিদেশে থাকায় ফাহাদকে গ্রে’প্তার করা যায়নি। কি’শোরীর সঙ্গে এই ঘটনার মূলহোতা ফাহাদ। প’র্নোগ্রাফি সাইটে কি’শোরীর নুড ভিডিও দিয়ে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করেছে। একই মা’মলায় নিশাত নামের এক নারীকেও আসামী করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে, এই ঘটনায় ওই নারীর ভূমিকা কি ছিলো তা অনুসন্ধান করে দেখছে গোয়েন্দা পু’লিশ।

ডিবি’র এই কর্মক’র্তা আরও জানান, গ্রে’প্তারকৃত সিফাত মূলত ফাহাদের ফুফাতো বোনের ছে’লে। সেই হিসেবেই তারা মামা-ভাগ্নে স’ম্পর্ক। মা’মলা’টির ত’দন্ত চলছে, আইন অনুযায়ী কানাডায় অবস্থানরত ফাহাদের বিষয়ে যে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেই ব্যবস্থাই নেওয়া হবে।